স্বল্প খরচে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা – ভবিষ্যতের আর্থিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায়

“SDG 2030” -তে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার যে লক্ষ্যমাত্রা আছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনগণের পকেট খরচ কমানো। এর সমাধানের পথ খুঁজতে গেলে প্রথম এবং সহজ পথ হবে “রোগ নিয়ন্ত্রণ”।

একজন মানুষ যদি নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, তাহলে তাঁর রোগ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে যায় কিংবা রোগ হলেও এর জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে তা অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সাথে ব্যক্তির পকেট খরচের (স্বাস্থ্যব্যয়) সরাসরি সম্পর্ক থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ চলে আসে। “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” এই খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে এখন আর দূরে যেতে হবে না। যা রোগীর যাতায়াত খরচ কমাবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন স্বল্প খরচে ন্যূনতম এমবিবিএস ডাক্তার দেখাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করবে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র”। তার মানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য একটি কেন্দ্র বহন করবে – স্বল্প খরচ, নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গুনগত মান।

গ্রামীণ অধিবাসীদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় কারো রোগ দেখা দিলে প্রথমেই তাঁরা চলে যান নিকটবর্তী ফার্মেসিতে। একজন ওষুধ বিক্রেতা অধিক মুনাফার আশায় বিক্রি বাড়াতে চান। যার ফলে প্রয়োজন নেই এমন ওষুধ দেদারসে বিক্রি হয়। যেমন সাধারণ সর্দিকাশিতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে। ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। ওষুধের এই অপব্যবহার বা অতিব্যবহারে ওষুধ প্রতিরোধী রোগ বাড়ছে। গ্রামীণ সমাজে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” এর উপস্থিতির কারণে ওষুধের অপব্যবহার বা অতিব্যবহার ইত্যাদি কমে যাবে এবং মানুষের অযথা ব্যয় কমবে। তাছাড়া অসুস্থ মানুষের পক্ষে বেশ দূরত্ব অতিক্রম করে সিরিয়াল দিয়ে সারাদিন বসে থেকে চিকিৎসা পরামর্শ ও পরীক্ষা করার চেয়ে নিজ এলাকায় একই সার্ভিস পাওয়া সুবিধাজনক।

শীঘ্রই এমন ব্যবস্থা করা হবে যেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ল্যাব টেস্টের জন্যে দূর দূরান্তে না যেতে হয়। সময়ের সাথে সাথে অনেকটা ওয়ানস্টপ কেয়ার এর আদলে সার্ভিস নিশ্চিত করতে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হেলথ সেন্টার বেইজড টেলিকমিউনিকেশন এর মাধ্যমে রোগী প্রয়োজনে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন এবং ডাক্তারও একই হটলাইন ব্যবহার করে রোগীর ফলো আপ নিতে পারেন। এভাবে চিকিৎসক ও রোগীর মাঝে সহজ যোগাযোগ, সহজলভ্য সার্ভিসের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে।

আমরা প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবায় এভাবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। উপকারভোগী রোগী ও উদারমনা চিকিৎসকদের কাছে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানবিক দিকগুলো আবার আমাদের সমাজে প্রতীয়মান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

5 thoughts on “স্বল্প খরচে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা – ভবিষ্যতের আর্থিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায়

  1. চট্টগ্রামে এ ধরণের পদক্ষেপ কি কোথাও নেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে?

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: