Featured

Scope for high-quality, affordable primary healthcare franchise in Bangladesh 

Of all the services offered by the Franchise industry, one of the least noticed one is, Healthcare. An individual, in their entire lifetime, must have visited a healthcare franchise without even realizing it. There is a big opportunity for high-quality, affordable primary healthcare franchise in Bangladesh. Rising income levels, ageing population, growing health awareness and changing attitude towards preventive healthcare is expected to boost primary healthcare services demand in future.

Healthcare is one thing, where people only trust the best and they are not willing to take risks or experimenting. A primary healthcare franchise proves that the business is successful and is trustworthy. It establishes a brand name, and people trust the brand name, especially in healthcare.

Various social and economic changes in Bangladesh like rising in the rate of literacy, rise in the levels of incomes and an increase in the consciousness because of wider media coverage, helpful in increasing awareness towards health. The rise in the nuclear family system makes routine health check-ups is necessary for the bread earner of the family.

Featured

অনুদান নির্ভর নয়, স্বনির্ভর হোক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা – মুজিববর্ষে ‘হাসিখুশি’র দৃপ্ত উচ্চারণ 

১৬ ডিসেম্বর ২০২১, বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী। একই বছর স্বাধীনতা সংগ্রামের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার বছরটিকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করেছেন।

এই বিশেষ দিনে ‘হাসিখুশি’ পালন করে ২য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।


১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রতিষ্ঠিত হয় ‘হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র’। অনাড়ম্বর আয়োজনে নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে ভাটপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় দিনব্যাপী স্বাস্থ্যমেলা।

চার শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া রক্তের গ্রূপ নির্ণয়, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, ওজন মাপা ও প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেকের রক্তচাপ মাপার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাঁচদোনাসহ অন্যান্য ইউনিয়ন থেকেও অনেক রোগী এসেছেন। এমন একজন রোগী জানান যে তিনি তাঁর আত্মীয়ের মাধ্যমে জেনেছেন যে এখানে ভাল ভাল ডাক্তাররা প্রতি শুক্রবার রোগী দেখেন। আজ (১৬ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার) একাধিক ডাক্তার আসবেন শুনে দেখাতে এসেছেন। তাঁর বাচ্চাটি দীর্ঘদিন ধরে রোগাক্রান্ত।

অপর একজন রোগী জানান যে আজ বিনামূল্যে হলেও এখানে ডাক্তাররা সময় দিয়ে রোগী দেখেন, কথা বলেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন এবং দরকার হলে রেফার করেন। আবার টেস্ট (রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা) করতে দিলে ডিসকাউন্ট লিখে দেন। কিছু ওষুধও পাওয়া যায়। গতবারের অভিজ্ঞতায় এবারও তাই এসেছেন।

স্থানীয় এক রোগীর স্বজন জানান ভিন্ন কিছু কথা। তিনি বলেন, “আমার বাচ্চার প্রায়ই জ্বর ঠান্ডা (সর্দি) লাগে। আগে যতবার ‘ফার্মেসির ডাক্তার’ দেখাইছি ততবারই চাইর পাশশ (চার-পাঁচশ’) টাকার ওষুদ দিছে। হাসিখুশিতে দেখানোর পরে আর এত টাকার ওষুদ লাগে না। পরে জানছি আমার বাচ্চারে এন্টিবাইটিক(এন্টিবায়োটিক) দিত। এখনো ওর জ্বর ঠান্ডা লাগে। এন্টিবাইটিক লাগে না। ঠিকই সুস্থ হইতাছে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীকে প্রথমে একটি ডেস্কে তালিকাভুক্ত (রেজিস্ট্রেশন) করা হয়। তারপর সিরিয়াল দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বুথে। শিশু, নারী ও পুরুষদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন বুথে ৬ জন ডাক্তার চিকিৎসা পরামর্শ দিচ্ছেন। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগেই রক্তচাপ(ব্লাড প্রেসার), ওজন, উচ্চতা দেখে নেয়া হয়। এই ডেস্কে স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। অন্য একটি ডেস্কে রক্তে শর্করার(ব্লাড সুগার) পরিমাণ দেখা হচ্ছে। একজন বিএসসি নার্স কাজ করছেন। আলাদা একটি ডেস্কে ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। কোথাও কোনো হইচই নেই। উৎসবমুখর পরিবেশে রোগীরা চিকিৎসা পরামর্শ ও অন্যান্য সেবা নিচ্ছেন।

ঢাকা থেকে আসা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. ফাহিমুল ইসলাম মন্ডল বলেন, “করোনার কারণে টানা কাজের চাপে কোথাও যাওয়া হয় না দেড় দুই বছর। আজ সুযোগ হলো। বহুদিন পর মেডিকেল ক্যাম্প, ভাল লাগছে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,”রোগী দেখে মনে হচ্ছে তাঁরা হয়তো অতটা সচেতন নন যেমনটা হয়ে থাকে শহরে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প তাঁদের স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলবে এবং রোগের শুরুতেই চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ তাঁদের চিকিৎসা সচেতন করবে বলে আশা করি। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসির ওষুধ সেবনের প্রবণতা কমে আসবে।”

হাসিখুশির অন্যতম উদ্যোক্তা ডা. সায়মন তাওহীদ বলেন, “এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এর ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বাংলাদেশের আপামর জনগোষ্ঠী। একটি শিশু, যে কখনো কোনো ওষুধ সেবন করেনি, সেও ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু সংক্রমণের শিকার হচ্ছে। অথচ এখানে তার কোনো দায় ছিল না। আজকের (১৬ ডিসেম্বর) মেডিকেল ক্যাম্পে চার শতাধিক রোগীর মাঝে চার শতাংশের নিচে এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করা হয়েছে। অথচ সাধারণ প্রবণতা হলো ওষুধের দোকানে গিয়ে অসম্পূর্ণ মাত্রায় এন্টিবায়োটিক সেবন। এটি যে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সেবন করতে হয়, এই সচেতনতা এলেই আয়োজন সার্থক।”

হাসিখুশির আরেকজন তরুণ উদ্যোক্তা মকবুল হোসেন সুজন। মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন সফল করতে কয়েকদিন আগে থেকেই ভাটপাড়ায় সংগঠকদের নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন,”যেখানে কিছু নেই সেখানেই কিছু গড়ার সম্ভাবনা থাকে। হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে তাদের সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়বে যা পরবর্তীতে কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনবল বিকাশে সহায়ক হবে।” আগামীর কিছু পরিকল্পনা আসছে বছরেই ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে এক কথায় এলাকার লোকজনের চিকিৎসা সচেতনতার দৃশ্য আঁকলেন হাসিখুশির সাথে যুক্ত স্থানীয় তরুণ আজহারুল ইসলাম, “অনেকেই এসেছেন শুধু ওষুধ নিতে। পেটব্যথা, মাথাব্যথা, গায়ে ব্যথার ওষুধ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ চাইছে। একটা ওষুধ খাওয়ার আগে যে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি, এই সচেতনতার অভাব আছে।”

‘হাসিখুশি’ প্রকল্পের উদ্যোক্তা ডা. মুরাদ হোসেন মোল্লা জানালেন যে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে একেকটি ছোট ছোট পরিকল্পনা কিভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে যোগ বিয়োগ চলছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিককালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নাগরিক উন্নয়ন ও চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আমরা মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্যে মনযোগ দিচ্ছি। গ্রাম পর্যায়ে সম্ভবত আমরাই প্রথম এমন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছি যা অনুদান নির্ভর নয় বরং স্বনির্ভর। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় উত্তরণের পথে স্বনির্ভরতা অপরিহার্য। গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে তাঁদের স্বাস্থ্যব্যয় কমে যাবে। স্বাস্থ্যশিক্ষায় সচেতন হবে, সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়বে। কর্মঘন্টা, উৎপাদনশীলতা বাড়বে। ‘হাসিখুশি’তে একে একে আরো চিকিৎসা সুবিধা যুক্ত হবে। মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে আর দূরে যেতে হবে না।” তিনি আগামী বছরের পরিকল্পনার কথা বলেন। শীঘ্রই এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানান।

দিন গড়িয়ে সন্ধ্যায় যখন অপেক্ষমান রোগীর ভিড় কমে আসছিল, টিমটিম করে জ্বলা আকাশের তারার মতো শ্রেণীকক্ষের বাতিগুলো জ্বলছিল।

আঁধার কাটাতে আলো আসবেই……………………….

Featured

To achieve universal health coverage, the Private Sector must be involved in primary health care

To progressively improve health outcomes and attain universal health coverage(UHC), strong primary health care (PHC) is essential. Our policymakers must acknowledge, however, that the public sector alone cannot offer all necessary services, including essential primary healthcare services, to everyone – and that the private sector is an important source of care – in order to achieve progress toward UHC. In this situation, Government should recognize the importance of engaging and stewarding the public and private sectors of their health systems. This demands a delicate balance between government and market forces. Bangladesh needs strong public capacity to enable and control it’s entire health system in order to attain this balance. Private health sector of Bangladesh must be organized and ready to collaborate with them in order to deliver high-quality, reasonably priced health care services. In the end, stronger public-private collaboration will benefit UHC by lowering out-of-pocket expenses, boosting access to services, and improving equity and quality.

In most low- and middle-income countries (LMICs), health-care policies are primarily focused on the development of government-owned and operated health facilities and a salaried government-funded health workforce, with fewer policies in place to enable and oversee the provision of health services by private health providers. Government frequently lack fundamental information about private providers, including their numbers, locations, and the types and quality of services they provide. Private providers, on the other hand, are more likely to focus on curative care and provide little preventive or promotive services.

The quality of private-sector services might vary, especially when the industry is mainly deregulated. Finally, existing regulatory procedures, such as accreditation processes for government-sponsored health finance programs, might be difficult for private providers to follow, particularly smaller practices with limited resources and expertise.

Featured

স্বল্প খরচে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা – ভবিষ্যতের আর্থিক ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমায়

“SDG 2030” -তে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার যে লক্ষ্যমাত্রা আছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্বাস্থ্যসেবা খাতে জনগণের পকেট খরচ কমানো। এর সমাধানের পথ খুঁজতে গেলে প্রথম এবং সহজ পথ হবে “রোগ নিয়ন্ত্রণ”।

একজন মানুষ যদি নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, তাহলে তাঁর রোগ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কমে যায় কিংবা রোগ হলেও এর জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়। বিশেষ করে অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে তা অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সাথে ব্যক্তির পকেট খরচের (স্বাস্থ্যব্যয়) সরাসরি সম্পর্ক থাকায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রসঙ্গ চলে আসে। “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” এই খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। নিয়মিত ডাক্তার দেখাতে এখন আর দূরে যেতে হবে না। যা রোগীর যাতায়াত খরচ কমাবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেন স্বল্প খরচে ন্যূনতম এমবিবিএস ডাক্তার দেখাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করবে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র”। তার মানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য একটি কেন্দ্র বহন করবে – স্বল্প খরচ, নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং গুনগত মান।

গ্রামীণ অধিবাসীদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় কারো রোগ দেখা দিলে প্রথমেই তাঁরা চলে যান নিকটবর্তী ফার্মেসিতে। একজন ওষুধ বিক্রেতা অধিক মুনাফার আশায় বিক্রি বাড়াতে চান। যার ফলে প্রয়োজন নেই এমন ওষুধ দেদারসে বিক্রি হয়। যেমন সাধারণ সর্দিকাশিতে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে। ওষুধের মাত্রা ও ব্যবহারবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে। ওষুধের এই অপব্যবহার বা অতিব্যবহারে ওষুধ প্রতিরোধী রোগ বাড়ছে। গ্রামীণ সমাজে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” এর উপস্থিতির কারণে ওষুধের অপব্যবহার বা অতিব্যবহার ইত্যাদি কমে যাবে এবং মানুষের অযথা ব্যয় কমবে। তাছাড়া অসুস্থ মানুষের পক্ষে বেশ দূরত্ব অতিক্রম করে সিরিয়াল দিয়ে সারাদিন বসে থেকে চিকিৎসা পরামর্শ ও পরীক্ষা করার চেয়ে নিজ এলাকায় একই সার্ভিস পাওয়া সুবিধাজনক।

শীঘ্রই এমন ব্যবস্থা করা হবে যেন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ল্যাব টেস্টের জন্যে দূর দূরান্তে না যেতে হয়। সময়ের সাথে সাথে অনেকটা ওয়ানস্টপ কেয়ার এর আদলে সার্ভিস নিশ্চিত করতে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

হেলথ সেন্টার বেইজড টেলিকমিউনিকেশন এর মাধ্যমে রোগী প্রয়োজনে ডাক্তারের সাথে কথা বলতে পারেন এবং ডাক্তারও একই হটলাইন ব্যবহার করে রোগীর ফলো আপ নিতে পারেন। এভাবে চিকিৎসক ও রোগীর মাঝে সহজ যোগাযোগ, সহজলভ্য সার্ভিসের মাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে।

আমরা প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবায় এভাবেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি। উপকারভোগী রোগী ও উদারমনা চিকিৎসকদের কাছে আমরা ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছি।যার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানবিক দিকগুলো আবার আমাদের সমাজে প্রতীয়মান হবে বলে আমরা আশাবাদী।

Featured

কেন গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে ভাবনা ?

যখনি আমরা “সবার জন্যে স্বাস্থ্য” নিয়ে ভাববো , প্রথমেই নজর দিতে হবে আমাদের অপেক্ষাকৃত দুর্বল দিকগুলোর দিকে।বাংলাদেশের গ্রামীণ জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬২.৬ ভাগ। তার মানে অর্ধেকের অনেক বেশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠী নিয়ে আমাদের পথ চলা। এই পথ চলা কে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা হলো এই জনগোষ্ঠীকে সুস্থ সবল রাখা।

সুস্থ ও স্বাস্থ্যবান মানুষ অধিক উৎপাদনশীল – সামাজিক অর্থনীতিতে যার প্রভাব অনেক ব্যাপক। আবার পারিবারিক অর্থনীতিতে স্বাস্থ্যের পেছনে ব্যয় কম হলে সেই অর্থ ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যের জন্য সঞ্চয় না করে অন্য খাতে ব্যয় করতে পারেন যা কিনা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক এবং একই সাথে বৃহত্তর অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি করে।

শিশু মৃত্যুর হার আমরা কমাতে সক্ষম হয়েছি,কিন্তু এখন চ্যালেঞ্জ শক্তিশালী ও মেধাবী মানুষ হিসেবে এই শিশুদের গড়ে তোলা।

উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটাই প্রতীয়মান হয়, কম খরচে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি অতীব জরুরি একটা বিষয় এবং গ্রামীণ এলাকায় তা অতি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও রেফারেল সিস্টেম

রোগ দেখা দিলে প্রথমেই যেখানে যেতে হয় তাকে বলে “প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র”।

“প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” এক কথায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রবেশদ্বার।এটি স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।কেননা এখান থেকেই রোগী তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা পান। জরুরি সমস্যার ক্ষেত্রে, যেমন রক্তপাত জাতীয় অসুখ বা দুর্ঘটনা, হঠাৎ অজ্ঞান, সাপে কাটা ইত্যাদি, অবশ্যই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

উন্নত বিশ্বে প্রাথমিক সেবা/সার্ভিস সাধারণত জেনারেল প্র‍্যাকটিশনার দিয়ে থাকেন যিনি ন্যূনতম এমবিবিএস / সমমান ডিগ্রিধারী।

প্রাথমিক সেবার ব্যাপকতা অনুযায়ী জেনারেল প্র‍্যাকটিশনার এর পাশাপাশি সেবাদানকারী হতে পারেন ডেন্টিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, নার্স ইত্যাদি, যারা প্রাথমিক সেবার অংশ হিসেবে কাজ করে থাকেন। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিকার বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনে সেবার পরিধি বাড়ানো হয়।

জটিলতর রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তী ধাপে প্রেরণ করা হয়। একে বলা হয় “উচ্চ পর্যায়ে রেফারেল” । সেখানে চিকিৎসা শেষে উন্নতি হলে তিনি পুনরায় প্রাথমিক সেবার অন্তর্ভুক্ত হন। দীর্ঘদিনের রোগ যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, এজমা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে বারবার নিয়মিত চিকিৎসা সেবার দরকার হয়। জটিল না হলে এমন সকল সেবাপ্রাপ্তি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রেই সম্ভব। রোগের প্রাদুর্ভাব, জটিলতা, চিকিৎসা, পরিণতি সম্পর্কে জানার জন্য (স্বাস্থ্যশিক্ষা) প্রাথমিক সেবাকেন্দ্র উপযুক্ত জায়গা।

প্রতিরোধযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ, দীর্ঘদিনের রোগের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ ও উচ্চ পর্যায়ে রেফারেল এর কাজটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র করে থাকে।

ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণ বা নিরোগ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব হয়।

“গ্রামীণ স্বাস্থ্য- ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা” 

গ্রামীণ স্বাস্থ্য- ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা”- এই লক্ষ্য নিয়ে হাসিখুশি’র জন্ম।

টেকসই উন্নয়নের জন্যে টেকসই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একটি অপরিহার্য উপাদান। জাতিসংঘ কর্তৃক যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য গৃহীত হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা। ২০৩০ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি,বেসরকারি, এন.জি.ও এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান সহ সবার সম্মিলিত প্রয়াস দরকার।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে চিকিৎসার অপ্রতুলতা সর্বজনবিদিত। সরকারি পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে যে ইউনিয়ন সাবসেন্টার আছে তা বর্তমান ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে চ্যালেঞ্জ এর সম্মুখীন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের(চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান) গ্রামাঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে ধরে রাখা কঠিন। তাই সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি মানসম্মত চিকিৎসাব্যবস্থা বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে বেসরকারি পর্যায়েও উদ্যোগ প্রয়োজন। শিল্পায়ন, নগরায়নের ফলে জীবনমানের উন্নতির আকাঙ্ক্ষা শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও বিস্তৃত হয়েছে। এই চাহিদা মেটাতে অন্যতম মৌলিক চাহিদা হিসেবে স্বাস্থ্যসুবিধা পৌঁছে দেয়া প্রয়োজন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে বর্তমানে নরসিংদীর পাঁচদোনা ইউনিয়নে “হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইউনিয়নবাসীদের নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে “হাসিখুশি”। এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ন্যূনতম এমবিবিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকগণ রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এছাড়াও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে রোগী এবং তার পরিবারকে সহযোগিতা করে প্রতিষ্ঠানটি।

মূলত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি মেডিকেল রেফারেল সিস্টেম এর প্রাইমারি ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। সরকারি বেসরকারি রেফারেল ইউনিটে প্রয়োজনে রেফার করা এবং সেখানে চিকিৎসা শেষে ফিরে এসে নিজ এলাকায় ফলোআপ সুবিধা দেয়ার কাজটি করবে এই প্রাইমারি ইউনিট।

এছাড়াও রয়েছে প্রয়োজনে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় এক প্রান্তে হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসক (ন্যূনতম এমবিবিএস) এবং অন্য প্রান্তে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার ফলে চিকিৎসাসেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে নিশ্চিত করছে প্রতিষ্ঠানটি। কারণ ন্যূনতম এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক কেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ জনস্বাস্থ্য তুলনামূলক নিরাপদ থাকবে।

চিকিৎসা পরামর্শের পাশাপাশি সুলভে ওষুধ প্রাপ্যতা এবং কম খরচে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বিদ্যমান ওষুধের ফার্মেসি ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মাধ্যমে একটি কার্যকরী নেটওয়ার্ক তৈরী করে হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মূল প্রতিষ্ঠান “হেলথক্লাউড প্রাইভেট লিমিটেড”। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা বিশ্বাস করেন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে সঠিকভাবে সমন্বয় করা গেলে খুব সহজেই গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে এবং সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসা যাবে। বিনা প্রয়োজনে নতুন বিনোয়োগ প্রত্যাশিত রিটার্ন এর পরিমান বৃদ্ধি করে যা কিনা ভোক্তার ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে সম্প্রতি হেল্থ কার্ড প্রোগ্রাম চালু করেছে।যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমান ফী পরিশোধ করে সারাবছর চিকিৎসা পরামর্শ পাওয়া যাবে এর যে কোনো কেন্দ্রে। পাশাপাশি রয়েছে দিনরাত ২৪ ঘন্টা জরুরি পরামর্শের জন্যে ডাক্তার এর সাথে কথা বলার একটি হটলাইনে নম্বর। ইতিমধ্যে হাসিখুশি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ইউনিয়নের মানুষের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালনার পাশাপাশি অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে গ্রাম পর্যায়ে ডিজিটাল তথ্যভান্ডার গড়ে তোলার কাজ করছে হেলথক্লাউড প্রাইভেট লিমিটেড। ফলে রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেয়ার ব্যবস্থা করা আরো সহজ ও সুলভ হবে।

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব জরিপে দেখা যায়, গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সাধারণত হাসপাতাল কেন্দ্রিক অথবা এন.জি.ও অনুদান নির্ভর। একজন এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক দেখাতে জনসাধারণকে গড়ে ১৫-২০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়। যা কোনোভাবেই টেকসই স্বনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থার অনুকূল নয়। এসব প্রতিকূলতা দূর করতে “হাসিখুশি” মডেলটি কতটুকু কার্যকর তা পর্যবেক্ষণ করছে এর মূল প্রতিষ্ঠান।

গ্রামীণ স্বাস্থ্যে জোর না দিলে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মান উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে। তা না হলে শিল্পায়ন ও উদীয়মান অর্থনীতির নেতিবাচক প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করে উন্নয়ন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। শক্তিশালী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়তে হলে ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

“Rural Health – Primary Health Care at the Union Level ”- Hashikhushi was born with this goal in mind

Sustainable health care is an essential element for sustainable development. One of the 17 Sustainable Development Goals adopted by the United Nations is to provide public health care. Achieving this goal by 2030 requires the concerted efforts of all concerned, including government, private, NGO and privately owned organizations.

The inadequacy of treatment in rural Bangladesh is well known. At the government level, the union sub-center in each union faces the challenge of meeting the current growing demand. Besides, it is difficult to retain health workers (doctors, nurses, technicians) at work place in rural areas. Therefore, in addition to government efforts, initiatives are also needed at the private level to expand quality medical care. As a result of industrialization, urbanization, the desire to improve the quality of life has spread beyond the cities to the villages. To fulfill this desire, healthcare as an important Basic Need, needs to be delivered.

At the union level, “Hashikhushi” is providing regular health services to the people of the union by establishing “Hashikhushi Health Care Center” in Panchdona Union of Narsingdi. Physicians with a minimum MBBS degree provide medical advice to patients at this healthcare center. The organization also assists the patient and his family in making all medical decisions.

Basically the healthcare center will act as the primary unit of the medical referral system. This primary unit will do the job of referring to the government and private referral unit if necessary and providing follow-up facility in their area after returning from treatment.

There is also the availability of technological arrangements for seeking advice from the specialists. The organization ensures that there will be a significant development in the healthcare industry by providing service through the doctors of Hashikhusi Healthcare Center (minimum MBBS) and a the specialist at the other end. This is because rural public health will be relatively safe through a physician-centric medical system with a minimum MBBS degree.

HealthCloud Pvt. Ltd., the parent company of the Hashikhusi Healthcare Center, has built an effective network through existing pharmacies and diagnostic labs for the availability of affordable medicines as well as low cost diagnosis tests. The entrepreneurs of the organization believe that if the necessary components of the health system are properly coordinated, the cost of healthcare in rural areas can be brought to a tolerable level and within reach. Unnecessarily new investment increases the amount expectation of returns of a consumer. The organization has recently launched a health card program to reduce the uncertainty about the medical expenses of rural households. There is also a hotline number to talk to the doctor for emergency advice 24 hours a day. In the meantime, the Hashikhusi Healthcare Center has received a positive response from the people of the union.

HealthCloud Pvt. Ltd. is working to build a digital database at the village level to control and prevent non-communicable diseases in addition to operating healthcare centers. As a result, it will be easier and cheaper to arrange treatment and necessary specialized advice according to the disease.

According to the organization’s own survey, healthcare at the village level is usually hospital-centric or rely on NGO grants. To see a doctor with an MBBS degree, village people have to cover an average distance of 15-20 km which is in no way conducive to sustainable self-reliant health care. Its core organization is monitoring how effective the “Hashikhusi” model is in overcoming these adversities.

Health Education to Students

Achieving sustainable development goals is impossible without emphasising on rural health. Along with economic development, there is a need to invest in improving the quality of health of the individual. Otherwise, it will not be possible to continue development by protecting public health from the negative effects of industrialization and emerging economies. The need for massive investment is essential to build a strong health system. Achieving goals is impossible. Along with economic development, there is a need to invest in improving the quality of health of the individual. Otherwise, it will not be possible to continue development by protecting public health from the negative effects of industrialization and emerging economies. The need for massive investment is essential to build a strong health system.